সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত আছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ অবস্থায় নতুন করে আবার বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। যেহেতু সিলেটে এখনো বন্যা পরিস্থিতি শেষ হয়নি, তাই স্থানীয় প্রশাসন বন্যা মোকাবিলার যাবতীয় কার্যক্রমের মধ্যেই আছে। যদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়, তাহলে সেই কার্যক্রমেরই সম্প্রসারণ ঘটবে। এছাড়াও গতকাল দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। এ সময় নগরীর কয়েকটি সড়কে কোমর পানি উঠে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জে আবারও বাড়ছে সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ সব নদ নদীর পানি। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল রোববার পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জে নদ নদীর পানি বাড়লেও বন্যার কোনোও আশংকা নেই। তবে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে যদি ভারি বৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ি ঢল নামে তাহলে স্বল্প মেয়াদি বন্যা হতে পারে।
অপরদিকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে গাইবান্ধায় ঘাঘট বাদে সব নদ-নদীর পানি আবারও বেড়েছে। গতকাল রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা ও করতোয়ার নদীর পানি বেড়েছে। তবে সব নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছুদিন আগেও গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এছাড়া দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে সতর্কবাণী দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বর্ষণের কারণে কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। গতকাল রোববার আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ভারী বর্ষণের সতর্কবাণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ৩০ জুন বিকেল ৪টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণজনিত কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবল রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে ও বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। যে কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার, করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার এবং তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসংলগ্ন কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। গতকাল বেলা ১২টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১৯৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘটের পানি ১৯৯ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি ৩৬০ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক মুঠোফোনে বলেন, উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়েছে। তবে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পানি বাড়ার কারণে নদীতীরবর্তী গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ও মোল্লারচর, ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি, ফজলুপুর ও কঞ্চিপাড়া এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কোথাও পানি কমেছে, আবার কোথাও বেড়েছে। তবে কুশিয়ারা নদীর একটি পয়েন্ট ছাড়া অন্য নদ-নদীগুলোর পানি আগের তুলনায় নেমেছে। বন্যার্ত এলাকায় প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি এবং আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এ সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন-সুরমা, সারিগোয়াইন নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কতিপয় নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হয়েছে, সারা দেশে আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত অতিবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ২০২২ সালের পর পুনরায় ২০২৪ সালে বন্যায় তলিয়ে গেছে বৃহত্তর সিলেট। টানা ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের ফলে সমতল আর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা বন্যায় ভেসে চলেছে। যদিও মাঝে মাঝে ভারি বৃষ্টি না দেখা দিলেও উজানের পানির কারণে দুটি নদীর ৬টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সিলেটের বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় অবস্থান করছে। তলিয়ে গেছে বাসা-বাড়ি, গবাদি পশু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ ক্ষেতের ফসলাদি। বেঁচে থাকার জন্য মানব জীবনের যা যা প্রয়োজন সবই মহা সংকটে দাঁড়িয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। প্রাণে বাঁচতে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে অবিরত। তবে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ভাটি এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও এখনো দুই নদীর ৬টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বাড়িঘরে টিকতে না পেরে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ।
উত্তরবঙ্গে বন্যা বাড়ার বিষয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, উজানের ঢলের সঙ্গে টানা বৃষ্টির পূর্ভাবাস থাকায় রংপুর বিভাগের সব নদ-নদীর পানি আরও কয়েকদিন বাড়বে। এতে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট জেলার আরো ব্যাপক অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বন্যা কতখানি দীর্ঘমেয়াদি হবে তার কোনো সুস্পষ্ট অনুমান করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, তিস্তা ব্যারেজের সব গেট দিয়ে উজানের পানি নামছে। ফলে তিস্তার পানি যেমন বেড়েছে তেমনি অন্যান্য নদীর পানিও বাড়ছে। সেই সঙ্গে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কয়েকদিন রয়েছে। তাই আগামী তিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে গুরুতর পরিস্থিতির দিকে যাবে না বলেও মনে হচ্ছে। এছাড়াও কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন কাঁচা সড়ক। ডুবে গেছে বাদাম, পাটক্ষেত, ভুট্টা, মরিচ ও শাক-সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। লালমনিরহাটে এখনও পানিবন্দী রয়েছে অন্তত ৭ হাজার পরিবার। সেখানে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে বহু গুণ। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আগেরদিন রাতে বুড়িতিস্তা নদীর বাঁধ ভেঙে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৭টি গ্রামের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। এছাড়া বালু পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার বিঘা কৃষিজমি ও আমন ধানের বীজতলা। ওই সাতটি গ্রাম ছাড়াও নীলফামারীর অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীগুলোর পানিও বেড়েছে। নিম্নাঞ্চলে পানি উঠায় ও উঠার আশঙ্কায় অনেকে অপরিপক্ব ধান ও ফসল সংগ্রহ করে ফেলছেন। অনেকস্থানে মানুষ পানিবন্দী থাকার কথাও আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম জেলার প্রধান দুই নদী ধরলা ও তিস্তার পানি যেভাবে বাড়ছে তেননি হু হু করে বাড়ছে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও। প্রধান দুই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।
অপরদিকে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম নগরী। এ সময় নগরীর কয়েকটি সড়কে কোমর পানি উঠে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এদিকে ঝড়ো হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দোকান ও বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে টানা দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরের জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেট, আলফালাহ গলি, শেরশাহ, টেক্সটাইল, রুবি গেট, রহমান নগর, ওয়াসা মোড়, লালখান বাজারের মতিঝরনা, মুরাদপুর, চকবাজারের বাদুরতলা, জঙ্গিশাহ মাজার, আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, কমার্স কলেজসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। এ ছাড়া লালখান বাজার, ডিসি হিল, আমবাগানসহ পাহাড়ের পাশের এলাকাগুলোতে ঢল নামে। এদিকে বায়েজিদ, ফৌজদারহাট লিংক রোডে পাহাড় ধসে সড়কে পড়েছে। এতে সাময়িকভাবে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে নগরের মুরাদপুরে এসে বিপাকে পড়েন মো. শফি। তিনি বলেন, মুরাদপুরে একেবারে হাটু পানি জমে গেছে। কিছুতেই নড়তে পারছি না। কখন ফটিকছড়িতে ফিরতে পারব তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। মুরাদপুরে মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু মুরাদপুরের কাছে এসেই বিপত্তি বাধে সড়কের পানি। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই যেতে হচ্ছে।
দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রাজু বলেন, গতকাল বিকেলে দোকান খোলার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছি। ওই মুহূর্তে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে গেছে। এখন বের হতে পারছি না।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফেরদৌস আহমেদ বলেন, যে পরিমাণ পানি নগরে জমেছে, সেগুলো আস্তে আস্তে নেমে যাচ্ছেন। নগরের খালগুলোতে থাকা বাঁধগুলো আমরা সরিয়ে দিয়েছি। যেন দ্রুত পানি নেমে যেতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

* সব বিভাগে ভারী বর্ষণের সতর্কতা, পাহাড়ে ভূমিধসের শঙ্কা * সুনামগঞ্জ ও গাইবান্ধায় ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি * সিলেটে বন্যা শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে আতঙ্ক * দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ
ভারী বর্ষণে ফের বন্যার আশঙ্কা
- আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৪ ১০:১০:৫০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৪ ১০:১০:৫০ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ